ভয়ঙ্কর
আমার বাড়ি ঝালকাঠি জেলার
দিবাকরকাঠি গ্রামে। আমাদের গ্রাম
নিয়ে অনেক ভৌতিক ঘটনা আছে। আজ
আপনাদের সাথে যে ঘটনাটা শেয়ার
করবো তা ঘটেছিলো প্রায় ৪০ বছর আগে।
আমাদের
গ্রামে তখনো বিজলী বাতি গিয়ে
পৌঁছায়নি। ওহ, প্রথমেই বলে নেই, এই
ঘটনাটি আমি আমার আব্বু এবং দাদির
মুখে শুনেছি। ঘটনাটি ঘটেছিলো আমার
দাদির সাথে।
আমার দাদা ছিলেন একজন ওঝা টাইপের
লোক। তিনি জিন তারাতে পারতেন।
তিনি যখনই জিন তারাতে বাড়ির
বাইরে যেতেন তখন বাড়ি শক্ত করে বন্ধক
দিয়ে যেতেন এবং সেদিন
বাড়ি থেকে বের হওয়া সকলের
মানা থাকতো। দাদা একদিন খুব তাড়াহুড়ার
সহিত জিন তারাতে রওনা হলেন। সেদিন
তিনি বাড়ি বন্ধক দিতে ভুলে যান।
তিনি যেই বাসায় জিন
তারাতে গিয়েছিলেন সেই বাসায়
পৌঁছতে পৌঁছতে তার রাত ৮টার
মতো বেজে যায়। তিনি অনেক
সাধনা করে একসময় জিনটাকে পরাজিত
করেন এবং জিনটা যাকে ভর
করেছিলো তার দেহ
থেকে জিনটাকে ছাড়িয়ে দেন।
জিনটাকে ছাড়িয়ে দিতেই সেটা হুংকার
দিয়ে বলে, “আমি গেলাম তোর
বাড়িতে!” তো দাদা উত্তর দিলেন, “যা,
তুই যা পারিস কর!” কিন্তু সাথে সাথেই
দাদার খেয়াল হল যে তিনি আজ
তাড়াহুড়ায় বাড়ি বন্ধক দিয়ে বের
হতে ভুলে গেছেন। এরই
মধ্যে জিনটা দাদার বাড়িতে এসে দাদার
রূপ ও কণ্ঠ নিয়ে ঘরের
বাইরে দাঁড়িয়ে দাদিকে ডাক দিলেন,
“জমিনা, বদনাটা নিয়া একটু আসো তো!”
দাদি ভাবলেন
দাদা হয়তো টয়লেটে যাবেন আর
গ্রামের টয়লেটগুলো বাড়ি থেকে একটু
দূরে হয়। দাদি পানি নিয়ে বের
হয়ে খেয়াল করলেন যে দাদা টয়লেটের
দিকে না গিয়ে বাগানের
দিকে চলে যাচ্ছেন।
দাদি সাথে সাথে বুঝতে পারলেন
যে এটা দাদা নয়। তাই তিনি দ্রুত ঘরের
দিকে চলে আসতে লাগলেন। হটাত
একটা দমকা বাতাসে দাদির হাতের
কুপিটা নিভে গেলো। তিনি দৌড়
দিলেন ঘরের দিকে। কিন্তু
জিনটা একটানে দাদিকে উঠানের পাশ
থেকে তুলে নিয়ে বাড়ির পাশের
পুকুরে ফেলে দিলো এবং চুবাতে শুরু
করলো। তখন বাড়িতে আমার ফুফু
এবং ফুফা ছিলেন। দাদি বিপদের
মুহূর্তে মত্র একবার বড় ফুফুর নাম ধরে ডাক
দিতে পেরেছিলেন। তিনি “আকলিমা”
বলে ডাক দেন এবং সৌভাগ্যবশত সেই
ডাক আমার ফুফুর কানে পৌঁছায়। আমার ফুফু
এবং ফুফা দৌড়ে এসে দেখেন
দাদি পুকুরের মাঝে অজ্ঞান অবস্থায়
ভাসছেন। এরপর তারা দাদিকে দ্রুত উদ্ধার
করে ঘরে নিয়ে যান
এবং সেবা চিকিৎসা করে দাদিকে সুস্থ
করে তোলা হয়।
ঘটনা এখানে শেষ হলে ভালো হতো।
কিন্তু এরপর থেকে দাদি প্রায়ই কিছু ভয়ঙ্কর
স্বপ্ন দেখতে লাগলেন। দাদা তাই
আমাদের পুরো বাড়ি শিক দিয়ে দেন
এবং সন্ধ্যার পর কারো বাড়ির
বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়।
এরপর দাদা জীবিত থাকাকালীন
সময়ে আর কিছু ঘটেনি।
দাদা মারা যাওয়ার পর
থেকে প্রতিবেশীরা কেউ রাত ২/৩টার
দিকে বাড়ির বাইরে বের
হলে দেখতে পান যে, সেই পুকুরের
পাড়ে আমার দাদার প্রতিরুপি কেউ একজন
বসে আছে। হয়তো ঐটাই সেই জিনটা যার
প্রতিশোধ নেয়া এখনো শেষ হয় নি।
অথবা হয়তো এটা দাদার
আত্মা যা আমাদের রক্ষা করার জন্য
এখনো আসে।
এই গল্পটা আমার এক দাদার ব্লগ থেকে নেওয়া.
বুধবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৪
জিনের গল্প
রবিবার, ৩১ আগস্ট, ২০১৪
ভয়াবহ একটি ভুতের গল্প
ভয়ংকর ভুতের গল্প
ঘটনাটি ৩-৪ বছর আগে আমার
মামার
সাথে ঘটছিলো।ঘটনাটি মামার
ভাষাতেই
দিলাম।তখন রাত ১টা বাজে।দোকান
বন্ধ করব।হঠাত্ মোবাইলে একটা কল
এল।দেখি বন্ধু শাহীন ফোন করেছে।
ভাবলাম,এত রাতে ওর
ফোন ,কাহিনী কি?ফোন ধরলাম।ধরেই
একটা দুঃসংবাদ শুনতে হল।ওর
চাচা কিছুক্ষন আগে মারা গেছেন।কাল
সকালে তার জানাজা হবে।এখন
মসজিদে মসজিদে গিয়ে হুজুরদের
বলতে হবে তারা যেন ফজরের
ওয়াক্তে মাইকিং করে দেন।আমি ওর
সাথে যেতে পারব কিনা জানতে চাইল।
আমি এককথায় রাজি হলাম।আধ ঘণ্টার
মধ্যে ওর বাসায় হাজির হলাম।তারপর
দুজনে একসাথে বের হয়ে বিভিন্ন
মসজিদে যেতে লাগলাম।তখন
৩টা কি ৩’৩০টা বাজে।দুজনে এক
মসজিদ থেকে বের
হয়ে আরেকটি মসজিদের
দিকে রওনা হলাম।
যে মসজিদটিতে যাচ্ছিলাম
তাতে যেতে হলে মাঝখানে একটি ডোমপাড়ার
মধ্যে দিয়ে যেতে হয়।
দুজনে ডোমপাড়ার
মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি।বন্ধুর মন খারাপ
তাই
সে কোন কথা বলছিল না।
পাড়াটি অত্যন্ত নোংরা।রাস্তার
পাশে কিছুদূর পরপর স্ট্রিট
লাইটপোস্ট।
কিছুদূর এগোনের পর অদ্ভূত
অনুভূতি হতে লাগল,মনে হল কে যেন
আড়াল থেকে আমাদের দেখছে।
শাহীনেরও
যে একই অবস্থা হয়েছিল
তা পরে জেনেছি।অস্বস্তি কাটাবার
জন্য
দুজনে কথা বলতে বলতে এগোতে লাগলাম।
যেতে যেতে রাস্তার একটা মোড় ঘুরবার
পর দেখি সামনে ১০-১২বছরের টাক
মাথার একটা ছেলে দাঁড়িয়ে আছে।
আমরা একটু অবাক হলাম।এত রাতে এত
ছোট একটা ছেলে বাহিরে কি করছে?
আমরা এগিয়ে গেলাম।পিচ্চিটাক
ে বললাম
এই তোর বাড়ি কই?এত
রাতে এখানে কি করস?পিচ্চিটা কিছু
না বলে মাথা নিচু করে হাঁটা ধরল।
এরপর
সে যা করল তা এককথায় অবিশ্বাস্য।
সে রাস্তার পাশের ড্রেনের
দিকে এগিয়ে গেল
এবং আস্তে আস্তে ড্রেনের
মধ্যে পুরোপুরি ঢুকে গেল!!!
আমরা সাথে সাথে দৌঁড়ে ড্রেনের
কাছে গিয়ে উকি দিলাম।কিন্তু
পিচ্চিটার
ছায়াও দেখলাম না।এত
তাড়াতাড়ি চম্পট
দেয়া কোন মানুষের পক্ষে সম্ভব না।
তার চেয়েও বড় কথা হল ড্রেনটা এত
সরু যে কোন ১০-১২বছরের
ছেলে সেটায়
পুরোপুরি ঢুকতে পারবে না।
রাস্তার পাশের স্ট্রীট লাইটের আলোয়
ঘটনাটা চাক্ষুষ করলাম।কেমন যেন
ধোকা লাগল।যাই
হোক,ব্যাপারটা পাত্তা না দিয়ে চলতে লাগলাম।
অদ্ভূত অনুভূতিটাও বহাল রইল।আরেকটু
এগোনের পর কি কারনে যেন
একটা লাইটপোস্টের মাথার দিকে নজর
গেল।যা দেখলাম তাতে দম বন্ধ
হয়ে গেল।পোস্টের মাথায়
ঝুলছে একটা লাশ,পিচ্চিটার লাশ!!!
এইবার বুঝতে পারলাম কিসের পাল্লায়
পড়েছি।শাহীনও লাশটা যে লক্ষ্য
করেছে তাও বুঝলাম তার পরের কথায়।
সে শুধু বলল দোস্ত ,ভাগ।দুজনে দৌঁড়
লাগালাম।কতদূর দৌড়াবার পর
থামলাম।
মনে হল বেঁচে গেছি।কিন্তু হঠাত্
করে শাহীনের চিত্কার।ওর
দিকে ঘুরে দেখি সে উপরের
দিকে আঙুল
তাক করে আছে।উপরের দিকে তাকাতেই
দেহে কাঁপুনি ধরে গেল।সেই পোস্ট,সেই
লাশ!!!চারপাশের পরিবেশও
চেনা মনে হল।একটু আগেই এখান
থেকে পালিয়েছিলাম।মাট িতে ধুপ
করে কিছু পড়ার শব্দ
শুনে ঘুরে দেখি শাহীন
মাটিতে পড়ে আছে।
হঠাত্ করে বিদঘুটে হাসির শব্দ
শুনে পোস্টের
দিকে তাকিয়ে যা দেখলাম
তা আমার কল্পনাতীত।পোস্ট ের মাথায়
কোন লাশ নেই!!!ঐটার
নিচে দাঁড়িয়ে অট্টহাসি হাসছে পিচ্চিটা!!!
হঠাত্ করে সে হ্যাঁচকা টান
দিয়ে নিজের
মাথা ছিঁড়ে ফেলল!!!আলোতে স্পষ্ট
দেখলাম চারপাশে রক্ত ছিটকে পড়ল।
কাটা মাথাটি পাগলের মত
হাসতে লাগল।
এরপর
কাটা মাথা হাতে কবন্ধটি আমাদের
দিকে এগোতে লাগল।আমি আর সহ্য
করতে পারলাম না।আল্লাহ আল্লাহ
করতে করতে চেতনা হারিয়ে ফেললাম।
পরদিন যখন হুঁশ হয়
বুঝতে পারি আমরা একটা মসজিদে আছি।
পরবর্তীতে জানতে পারি যে ফজরের
ওয়াক্তে মসজিদে আসার পথে আমাদের
পড়ে থাকতে দেখে মুসল্লীরা আমাদের
মসজিদে নিয়ে এসেছে।এটা ছিল সেই
মসজিদ যেটার
উদ্দেশ্যে আমরা রওনা হয়েছিলাম।
ইমাম
সাহেবের কাছে আমরা সব
কথা বললে তিনি বলেন যে ঐটা ছিল
খারাপ প্রকৃতির প্রেত যা মানুষের পথ
ভুলিয়ে দিয়ে এবং ভয়
দেখিয়ে ক্ষতি করে থাকে।
তিনি আমাদের
রাতে বাইরে থাকতে নিষেধ করলেন।
তার কথা আজও
মেনে চলি।
শনিবার, ৯ আগস্ট, ২০১৪
Welcome to skjia.com
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যসমূহ (Atom)
